এলার্জি? ওষুধ খাওয়ার আগে জানুন কীসে হচ্ছে!

শরীরে চুলকানি হচ্ছে, লাল লাল চাকা উঠেছে, হাঁচি হচ্ছে, নাক দিয়ে পানি পড়ছে—ব্যস, ফার্মেসি থেকে একটা অ্যালার্জির ওষুধ কিনে খেয়ে নিলেন।

কিছুক্ষণ পর উপসর্গ কমে গেল। কিন্তু কয়েক দিন পর আবার একই সমস্যা!

এভাবে মাসের পর মাস অ্যালার্জির ওষুধ খেয়ে যাচ্ছেন। অথচ কখনো জানার চেষ্টা করেননি, আপনার অ্যালার্জি আসলে কীসে হচ্ছে?

এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।

অ্যালার্জি হলেই শুধু ওষুধ খেতে হবে?

অ্যালার্জির চিকিৎসায় ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অ্যালার্জির সম্ভাব্য কারণ বা trigger শনাক্ত করা এবং সম্ভব হলে তা এড়িয়ে চলা।

যেমন—

  • ধুলাবালি বা house dust mite
  • ফুলের পরাগরেণু (Pollen)
  • পোষা প্রাণীর লোম বা ত্বকের কণা
  • নির্দিষ্ট কিছু খাবার
  • কোনো ওষুধ
  • পোকামাকড়ের কামড়
  • ছত্রাক বা mould
  • প্রসাধনী, সাবান বা নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ

সব রোগীর অ্যালার্জির কারণ এক নয়। একজনের যে জিনিসে অ্যালার্জি হয়, অন্যজনের সেটিতে কোনো সমস্যাই নাও হতে পারে।

শুধু অ্যালার্জির ওষুধ খেলে কি রোগ ভালো হয়ে যাবে?

অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ অ্যালার্জির অনেক উপসর্গ, যেমন চুলকানি, হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা urticaria-এর চাকা কমাতে সাহায্য করে।

কিন্তু এসব ওষুধ সব ধরনের অ্যালার্জির মূল কারণ দূর করে না।

ধরুন, কোনো নির্দিষ্ট প্রসাধনী ব্যবহারের পর আপনার ত্বকে বারবার অ্যালার্জি হচ্ছে। আপনি প্রতিবার অ্যান্টিহিস্টামিন খেয়ে চুলকানি কমাচ্ছেন, কিন্তু সেই প্রসাধনী ব্যবহার বন্ধ করছেন না।

তাহলে সমস্যাটি বারবার ফিরে আসতেই পারে।

খাবারে অ্যালার্জি নিয়ে একটি ভুল ধারণা

অনেকেই মনে করেন, গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, চিংড়ি, ডিম, বেগুন—এসব খাবার স্বাভাবিকভাবেই অ্যালার্জি তৈরি করে।

এটি ঠিক নয়।

কোনো খাবারে একজনের অ্যালার্জি থাকতে পারে, কিন্তু সবার নয়। আবার খাবার খাওয়ার পর পেটের অস্বস্তি হলেই সেটি খাদ্য অ্যালার্জি নয়।

তাই প্রমাণ ছাড়া একের পর এক খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়।

অ্যালার্জি পরীক্ষা কি সবার প্রয়োজন?

না।

প্রত্যেক অ্যালার্জি রোগীর জন্য Allergy test প্রয়োজন হয় না। রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা থেকেই অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

প্রয়োজন হলে চিকিৎসক Skin prick test, specific IgE বা Patch test-এর পরামর্শ দিতে পারেন।

তবে মনে রাখবেন, কোনো পরীক্ষায় sensitization পাওয়া গেলেই সেটি প্রমাণ হয় না যে ওই জিনিসটি আপনার উপসর্গের কারণ। পরীক্ষার ফল রোগীর ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করতে হয়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

  • বারবার অ্যালার্জি হলে।
  • দীর্ঘদিন অ্যালার্জির ওষুধ খেতে হলে।
  • নির্দিষ্ট খাবার বা ওষুধের পর প্রতিক্রিয়া হলে।
  • অ্যালার্জির কারণে ঘুম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হলে।
  • চিকিৎসার পরও সমস্যা নিয়ন্ত্রণে না এলে।

আর অ্যালার্জির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, গলা বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে এটি গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া (Anaphylaxis) হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অ্যান্টিহিস্টামিন খেয়ে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

শেষ কথা

অ্যালার্জির চিকিৎসা মানে শুধু একটি অ্যান্টিহিস্টামিন খাওয়া নয়।

কীসে অ্যালার্জি হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে এবং কীভাবে সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়—এগুলো জানা চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাই প্রতিবার অ্যালার্জি হলেই নতুন ওষুধের খোঁজ না করে, আগে কারণটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।

মনে রাখবেন, উপসর্গ কমানো চিকিৎসার একটি অংশ; অ্যালার্জির trigger শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Dr. Alim Al Razy
লেখক · About the author
Dr. Alim Al Razy
MBBS, BCS (Health), MCPS, FCPS (Medicine) · Medicine Specialist, Sylhet

এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য — ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চেম্বার: আল হারামাইন হাসপাতাল, সোবহানীঘাট, সিলেট (বিকাল ৫টা – রাত ৯টা, শুক্র ও সোমবার বন্ধ)।

Priority Appointment 📞 Call 10607

আরও পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *