ভাইরাল প্রসঙ্গ – ফ্যাটি লিভার এবং ভাইরাল হেপাটাইটিস

লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার পর অনেকেই ফ্যাটি লিভার নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ফেসবুকে ভাইরাল কিছু পোস্টে দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ তার সংকটাপন্ন অবস্থার জন্য ফ্যাটি লিভারকে দায়ী করছেন।
বিষয়টি আসলে তা নয়।
ফ্যাটি লিভার একটি নীরব রোগ। দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে লিভারে চর্বি জমতে থাকে। এর ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরি হয়, যা সময়ের সাথে লিভারের ক্ষতি করে। শেষপর্যন্ত এটি সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের মতো জটিল রোগের কারণ হতে পারে।
তবে ফ্যাটি লিভার হঠাৎ করে কাউকে গুরুতর অসুস্থ করে আইসিইউতে নিয়ে যায় না।
কারিনা কাইসারের ক্ষেত্রে যা হয়েছে, তা হলো ভাইরাল হেপাটাইটিস। তিনি হেপাটাইটিস A এবং E ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যার ফলে তার লিভার কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। এই দুই ধরনের ভাইরাস সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়।
তাই ফেসবুকের ভাইরাল পোস্ট দেখে ফ্যাটি লিভার নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে ভাইরাল হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতন হোন।
আর হ্যাঁ… অবশ্যই ফ্যাটি লিভার নিয়েও সচেতন থাকুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, নিয়মিত হাঁটুন, ব্যায়াম করুন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা — আলট্রাসনোগ্রাফিতে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই মুড়ির মতো কোলেস্টেরলের ওষুধ খাওয়া শুরু করবেন না, কিংবা চিকিৎসককে ওষুধ লেখার জন্য চাপ দেবেন না (প্লিজ, আল্লাহর দোহাই লাগে)।fatty liver

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *