অস্টিওআর্থ্রাইটিসে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা—”একটা ভালো ওষুধ পেলেই হাঁটু ঠিক হয়ে যাবে”

প্রতিদিনই অনেক রোগী আসেন একটি প্রশ্ন নিয়ে—”ডাক্তার সাহেব, হাঁটুর জন্য সবচেয়ে ভালো ওষুধটা লিখে দিন।”

আসলে এখানেই সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা।

অনেকেই মনে করেন, অস্টিওআর্থ্রাইটিসের জন্য নিশ্চয়ই এমন কোনো শক্তিশালী ওষুধ আছে, যা কয়েক মাস খেলেই হাঁটুর ক্ষয় পূরণ হয়ে যাবে বা ব্যথা স্থায়ীভাবে ভালো হয়ে যাবে।

বাস্তবে এমন কোনো ওষুধ এখনো নেই।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এর চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো ব্যথা কমানো, চলাফেরার সক্ষমতা বজায় রাখা এবং রোগের অগ্রগতি যতটা সম্ভব ধীর করা।

আর এই কাজটি সবচেয়ে ভালোভাবে করে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, শুধু ওষুধ নয়।

যদি আপনার ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে প্রতিটি পদক্ষেপে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বছরের পর বছর সেই চাপ হাঁটুর ক্ষয় ও ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৫–১০% ওজন কমালেও অনেক রোগীর ব্যথা, চলাফেরা এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।

আরেকটি ভুল ধারণা হলো, ব্যথা না থাকলে ব্যায়াম বন্ধ রাখতে হবে।

বরং সঠিক নিয়মে করা ব্যায়াম, বিশেষ করে উরুর পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম (Quadriceps strengthening), হাঁটুকে আরও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যথা কমায়। অবশ্যই ব্যায়াম চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।

অনেকে আবার বিভিন্ন “জয়েন্টের ভিটামিন”, “কার্টিলেজ তৈরির ওষুধ”, “হারবাল ওষুধ” বা বিভিন্ন সাপ্লিমেন্টের পেছনে মাসের পর মাস অনেক টাকা খরচ করেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি উপকারের পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

এদিকে যেটি সত্যিই সবচেয়ে বেশি উপকার করে—ওজন কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম, প্রয়োজন হলে ফিজিওথেরাপি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা—সেটিকেই অনেক রোগী সবচেয়ে কম গুরুত্ব দেন।

ব্যথার ওষুধেরও একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা আছে। ব্যথা বেশি হলে বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শে এগুলো ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এসব ওষুধ রোগ সারায় না; শুধু উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিজের ইচ্ছামতো দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ খেলে কিডনি, পাকস্থলী এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

মনে রাখবেন, অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় সবচেয়ে শক্তিশালী “ওষুধ” অনেক সময় প্রেসক্রিপশনে লেখা থাকে না। সেটি হলো—ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা।

তাই শুধু নতুন নতুন ওষুধের খোঁজ না করে, এমন অভ্যাস গড়ে তুলুন যা আপনার হাঁটুকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সাহায্য করবে। অনেক সময় এই পরিবর্তনই সবচেয়ে কার্যকর এবং দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *